জাপানের কৃষি যাচ্ছে নারীর হাতে

Japan's agriculture is going in women's hands
ছবি : সংগৃহীত

সরদার জাহিদুল কবীর: শিল্পপ্রধান দেশ জাপানের কৃষিতে ক্রমেই বাড়ছে নারী শ্রমিক, গবেষক ও উদ্যোগতাদের সংখ্যা। যখন জাপানের পুরুষরা ছুটছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নেশায়, তখন নারীরা ছুটছে কৃষিক্ষেতে।

বাংলাদেশের ন্যায় কৃষিপ্রধান নয় জাপান। তারপরও জাপানের কৃষিতে রয়েছে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নব নব আবিষ্কার-উদ্ভাবনের প্রয়োগ। জাপানের কৃষিক্ষেতগুলো প্রতিনিয়ত পরিপাটি হয়ে সেজে ওঠে সেই নব নব আবিষ্কার-উদ্ভাবনের ছোঁয়ায়। জাপান থেকে কৃষিতে পিএইচডি নিয়ে অনেক বাংলাদেশী কৃষিবিদ দেশে ফিরে দেশের কৃষিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

জাপানের খনিজ শিল্পের সাথে জাপানী অর্থনীতির প্রাথমিক খাত কৃষি, কৃষিকাজ এবং মৎস্য একসঙ্গে মোট জাতীয় উৎপাদনের মাত্র ১.৩% যোগ করে। প্রধানত আগ্নেয়গিরির লিাভা নির্মিত জাপানের মাত্র ২০% জমি চাষের জন্য উপযুক্ত এবং কৃষি অর্থনীতি অতিমাত্রায় ভর্তুকির অধীন।

কৃষি, বন ও মাছ শিকার জাপানী অর্থনীতিতে ১৯৪০-এর দশকের পরপরই আধিপত্য বিস্তার করে, কিন্তু তারপরে মধ্যম শ্রেণীর শিল্পের দুর্বার গতির কাছে পিছিয়ে পড়ে কৃষি সেক্টর। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বা মেইজি সময়কালে এই সেক্টরে ৮০% এরও বেশি কর্মসংস্থান হয়। এরপর কৃষিতে কর্মসংস্থান পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে কমেছে। তবে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও সেক্টরটি সর্ববৃহৎ নিয়োগকর্তা হিসেবে থাকে।যার কার্যপ্রণালী তখন ছিল প্রায় ৫০%। ১৯৬৫ সালে এটি আরও ২৩.৫%, ১৯৭৭ সালে ১১.৯% এবং ১৯৮৮ সালে ৭.২% হারে পরিণত হয়। এরপর  থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বর অবনতি দ্রুত অব্যাহত থাকে। যা ১৯৮৯ সালে ৪.১% থেকে ৩% এবং বর্তমানে ১% এর কোঠায় এসে পৌছেছে। এরপরও গুরুত্বের কারণে অতিমাত্রায় ভর্তুকি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়েছে কৃষি খাতকে। কারণ মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে খাবার তাকে খেতেই হবে। আর খাবার উৎপাদনের একমাত্র খাত হলো কৃষি। সুতরাং কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তাই তারা সেটা করছে।

তিন ধরণের কৃষক পরিবার রয়েছে জাপানে।এগুলি হলো; ১. উন্নত: যারা কৃষি ক্ষেত্রে একচেটিয়াভাবে জড়িত। এরা ১৯৮৮ সালে ৪.২ মিলিয়ন কৃষি বা খামার পরিবার। যা ১৪.৫%। ২. যারা ১৯৬৫ সালে ২১.৫%-এর নিচে ছিল; এরা  মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি আয় করে খামার থেকে। ১৯৬৫ সালে এরা ৩৬.৭% থেকে ১৪.২%-এর মধ্যে ছিল। ৩. এরা মূলত চাষের সাথে জড়িত এবং চাষ ছাড়া অন্য কাজ হিসেবে চাকরিতে জড়িত। ১৯৬৫ সালে এরা ৭১.৩% থেকে ৪১.৮%-এর মধ্যে ছিল।১৯৭০ এবং ১৯৮০’র দশকে জাপানে দারিদ্র্যের হার কমে যায়।

তবে ঐতিহাসিকভাবে আজ জাপানের কৃষিতে নারীদের আগমন বাড়ছে।বর্তমানে জাপানে নারী কৃষক পুরুষ কৃষকদের চেয়ে বেশি।  ২০১১ সালের সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায় যে জাপানী নারীরা তিন-চতুর্থাংশের বেশি নতুন কৃষিপণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে হয়ত দেখা যাবে, জাপানের কৃষি পুরোটাই চলে যাবে জাপানী নারীদের হাতে।

সূত্র: অনলাইন