কেন কিভাবে করবেন জমি রেজিস্ট্রেশন: পর্ব-১/৯

Why how to do land registration: Part I / 9

সরদার জাহিদুল কবীর: সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় মৌখিকভাবে হতে পারে। আবার লিখিত দলিল দ্বারাও হতে পারে। মৌখিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের বিপদ অনেক। কিন্তু লিখিত দলিল দ্বারা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করলে বিপদ অনেক কম থাকে। এমনকি প্রতারিত হবার সম্ভাবনাও কম থাকে। লিখিত দলিল থাকলে মিথ্যা দাবী তুলে ক্রয়-বিক্রয় অস্বীকার করা যায় না। তবে লিখিত দলিলও সব সময় নিরাপদ নয়। লিখিত দলিল হারিয়ে যেতে পারে, নষ্ট হয়ে যেতে পারে, অপাঠ্য বা অস্পষ্ট হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু দলিলখানা যদি রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে তাহলে সহজেই ঐ দলিলের নকল নেওয়া যেতে পারে। রেজিস্ট্রেশন আইনের বলেই তা সম্ভব হয়েছে। বহু বছরের অভিজ্ঞতার ফসল এই রেজিস্ট্রেশন আইন।

রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রকৃতি

জেরিমি বেনথামের মতে সাবস্টেন্টিভ অথবা এ্যাডজেকটিভ ধরণের হবে। প্রথমটি হচ্ছে মূল আইন এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রথমটিকে বাস্তবায়ন করার পদ্ধতিগত আইন। দ্বিতীয়টি আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, পক্ষগণের উপর সমন জারীর পদ্ধতি, সাক্ষী ও দলিলাদি হাজির করা ইত্যাদি পদ্ধতির বিষয় বর্ণনা করে। এই আইনকে কার্যকরী করার জন্য বিধিমালা প্রণয়নের বিধান এই আইনে রয়েছে। এই আইনটি রেজিস্ট্রি দ্বারা দলিলের সত্যতা সম্পর্কে মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মায়।

রেজিস্ট্রেশন আইনের উদ্দেশ্য

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-সম্পত্তি সম্পর্কিত স্বত্ত্বের জাল দলিল প্রণয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা এবং দলিলের যথার্থতা সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা বিধান করাই রেজিস্ট্রেশন আইনের উদ্দেশ্য। জালদলিল ও মিথ্যা স্বাক্ষী দ্বারা সমর্থিত মিথ্যা দাবির উপর প্রতিষ্ঠিত এরূপ সম্পত্তি বিষয়ক মামলা প্রতিরোধ করার উদ্দেশেই এই আইনের সৃষ্টি হয়েছে। রেজিস্ট্রিকরণের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল, স্থাবর-সম্পত্তির ক্রেতাদের স্বত্ত্বের অবস্থা নির্ণয়ের অবলম্বন প্রদান করা। রেজিস্ট্রিকরণের উদ্দেশ্য হল-স্বত্ত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করা ও জাল-জালিয়াতি ও গোপনীয় আদান-প্রদান প্রতিরোধ করা। রেজিস্ট্রিকরণ পদ্ধতি স্বত্ত্বের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

রেজিস্ট্রেশন আইনের উদ্দেশ্যর সার-সংক্ষেপ এরূপ

(১) দলিলের যথার্থতা সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা বিধান করা।

(২) আদান-প্রদানের প্রচার প্রদান করা।

(৩) জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধ করা।

(৪) একটি সম্পত্তির ইতিপূর্বে কোন বিধি-ব্যবস্থা হয়েছে কিনা ওটা নির্ণয়ের সুযোগ প্রদান করা।

(৫) স্বত্ব-দলিলের নিরাপত্তা বিধান করা এবং মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে স্বত্ব প্রমাণের সুযোগ বিধান করা।

রেজিস্ট্রেশন প্রশাসন

রেজিস্ট্রেশন কার্য পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রেজিস্ট্রেশন পরিদফতর রয়েছে। সরকারকে রেজিস্ট্রেশন পরিদফতরের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে একজন অফিসার নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যিনি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন সংক্ষেপে আই.জি.আর. নামে অভিহিত হন। সরকারকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে সরকার ইন্সপেক্টর জেনারেলের নিয়োগের পরিবর্তে অন্য কোন অফিসার নিয়োগ করতে পারবেন, যিনি ইন্সপেক্টর জেনারেলের উপর অর্পিত ক্ষমতা ও কর্তব্যের সবগুলি বা যে কোন একটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে পরিচালনা করবেন।

সূত্র: অনলাইন